বাংলাদেশে হোম লোনের জন্য সেরা ব্যাংক

বাংলাদেশে হোম লোনের জন্য সেরা ব্যাংক

September 27, 2022

সবারই স্বপ্ন থাকে একটি সুন্দর বাড়িতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করার। কিন্তু সাধ থাকলেও অনেকেরই সাধ্য থাকে না। আজ এই সমস্যাটির সমাধান নিয়ে কথা বলবো।

হ্যাঁ, আজ হোম লোন এবং বাংলাদেশে হোম লোনের জন্য সেরা ব্যাংকগুলো সম্পর্কে জানাবো। যারা একটি বাড়ি করার আশায় রয়েছেন কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থের জন্য আশাটা পূরণ করতে পারছেন না তাদের বিভিন্ন হোম লোনের উৎস, বৈশিষ্ট্য, সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানাবো। যাতে আপনারা সহজেই বাড়ি তৈরির জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতে পারেন।

হোম লোন কী?

পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে বাড়ি না করতে পারার সমস্যা দূরীকরণে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থায়ন বা অর্থ ব্যবস্থা করাই হলো হোম লোন। বিভিন্ন ধরণের প্রতিষ্ঠান হোম লোন দিয়ে থাকে। তারমধ্যে ব্যাংক অন্যতম।

ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক জনগণকে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে সেবা দিয়ে থাকে। সেটা হতে পারে অর্থ দিয়ে আবার নিরাপত্তা দিয়ে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের মধ্যে হোম লোন প্রদান খুবই জনপ্রিয়।

বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সবার কাছে একটি বাড়ি করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। অর্থের অপর্যাপ্ততার সমস্যাটির সমাধান দিতে পারে ব্যাংকের হোম লোন ব্যবস্থা। বাংলাদেশে হোম লোনের জন্য কিছু ব্যাংক বর্তমানে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি সম্পর্কে আজ জানবো।

১. ডিবিএইচ ফাইনান্স করপোরেশন (Delta Brac Housing Finance Corporation Limited)

ডিবিএইচএফসি (DBHFC) ব্যাক্তি মালিকানাধীন নন- ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান। যেটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালে এবং এর কার্যক্রম শুর হয় ১৯৯৭ সালে।

এটি একটি যৌথ মালিকানাধীন সংগঠন। হোম লোন প্রোভাইডার হিসেবে এটি যথেষ্ট বিস্তৃত। পাশাপাশি বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট খাতে অর্থায়নের জন্য একটি অন্যতম বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি দীর্ঘ ৭ বছর যাবৎ AAA (Extremely Strong Capacity) ক্রেডিট রেটিং পেয়েছে। এটি বাংলাদেশে হোম লোনের জন্য সেরা কিছু ব্যাংকের মধ্যে অন্যতম একটি।

ডিবিএইচএফসি থেকে হোম লোন পাবার জন্য কিছু যোগ্যতা থাকা দরকার। যেমন –

  • এ প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিতে একজন ব্যাক্তির বয়স ২১-৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • চাকরিজীবীদের জন্য মাসিক আয় সর্বনিম্ন ৩৫০০০ টাকা হতে হবে।
  • হোম লোন পাওয়ার জন্য ১ জন জামিনদার লাগবে যিনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল।
  • চাকুরীজীবিদের জন্য কর্ম অভিজ্ঞতা কমপক্ষে ২ বছর লাগবে।
  • ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবসায়ের অভিজ্ঞতা কমপক্ষে ৩ বছর লাগবে।
  • যে ভূমির ওপর বাড়ি নির্মাণ হবে তার মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে, এতে লোন প্রাপ্তি সহজ হয়।

ডিবিএইচ ফাইনান্স কর্পোরেশন থেকে হোম নিলে কিছু বিশেষ সুবিধাও রয়েছে। যেমন-

  • দীর্ঘ সময়ে লোন পরিশোধ করার সুযোগ রয়েছে। যার মেয়াদকাল ১-২৫ বছর পর্যন্ত।
  • কোনো হিডেন চার্জ নেই।
  • বাড়ির ক্রয়মূল্যের ওপর ৭০% ব্যয় এবং নির্মাণ মূল্যের ওপর ৮০% ব্যয় পর্যন্ত লোন পাওয়া সম্ভব।
  • প্রসেসিং ফি মাত্র ১%।
  • আংশিক বা পুরোপুরি সেটেলমেন্ট সুবিধা আছে।

২. মিডল্যান্ড ব্যাংক

মিডল্যান্ড ব্যাংক বাংলাদেশের ব্যাক্তি-মালিকানায় গঠিত  একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। যার যাত্রা শুরু হয় ১৩ জুন ২০১৩ সালে। যাত্রাকাল অল্প হলেও, ব্যাংকিং কার্যক্রমে সবার মধ্য থেকে ছাপিয়ে উঠেছে। এটির ব্যাংকিং কার্যক্রমের মধ্যে হোম লোন প্রদান অন্যতম।

এ ব্যাংক থেকে লোন নিতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হলো-

  • মাসিক আয় হতে হবে সরকারি চাকুরীজীবীদের সর্বনিম্ন ৪০০০০ টাকা, বেসরকারি চাকুরীজীবীদের সর্বনিম্ন ৫০০০০ টাকা, ব্যবসায়ীদের সর্বনিম্ন ৫০০০০ টাকা।
  • কাজের অভিজ্ঞতা বেসরকারি চাকুরীজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন ২ বছর, ব্যাবসায়ীদের সর্বনিম্ন ২ বছর, প্রফেশনালদের (যেমন- ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, চার্টাড আ্যকাউন্টটেন্ট ইত্যাদি) সর্বনিম্ন ২ বছর।

বাংলাদেশে হোম লোনের জন্য সেরা ব্যাংক হিসেবে মিডল্যান্ড ব্যাংক হতে হোম লোন নিলে কিছু বিশেষ সুবিধাও পাবেন। যেমন-

  • আপনি সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত লোন নিতে পারবেন।
  • লোনের মেয়াদকাল ৩-২৫ বছর
  • দ্রুত বৈধ কাগজপত্র যাচাই সুবিধা
  • দ্রুত প্রসেসিং
  • কোনোরকম হিডেন চার্জ নেই
  • আংশিক এবং সম্পূর্ণ সেটেলমেন্ট সুবিধা
  • যৌথ আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

. স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক

স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বিদেশি মালিকানায় বাংলাদেশে শাখা স্থাপনের মাধ্যমে পরিচালিত বাণিজ্যিক ব্যাংক। এই ব্যাংক দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই ব্যাংক সর্বপ্রথম চালু হয় ১৯০৫ সালে। এর মূল সদর দফতর ইংল্যান্ডে অবস্থিত। এই ব্যাংক বাংলাদেশের চট্টগ্রামে  প্রথম স্থাপিত হয় ১৯৪৮ সালে। বাংলাদেশে শাখাগুলোর সদর দপ্তর ৬৭ গুলশান এভিনিউ, ঢাকায় অবস্থিত। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি হোম লোন প্রদানের জন্যও সুপরিচিত।

এই ব্যাংক থেকে লোন নিতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হলো-

  • বেতনভুক্ত কর্মচারীদের সর্বনিম্ন আয় ৭৮০০০ টাকা এবং অন্যদের ক্ষেত্রে ৭০০০০ টাকা হতে হবে।
  • লোন প্রসেসিংয়ের সময় প্রধান ঋণগ্রহীতার বয়স হতে হবে সর্বনিম্ন ২৫ এবং লোন পরিশোধের সময় বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৭০ বছর।
  • বেতনভুক্ত কর্মচারীদের কাজের অভিজ্ঞতা নূন্যতম ৩ বছর হতে হবে।

বাংলাদেশে হোম লোনের জন্য সেরা ব্যাংক হিসেবে স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকেরও কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে। যেমন

  • সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত লোন সুবিধা।
  • লোন পরিশোধের মেয়াদকাল ২৫ বছর, তবে ব্যবসায়ীদের জন্য ১০ বছর।
  • দ্রুত লোন প্রসেসিং হয়ে থাকে
  • লোন প্রসেসিং ফি মাত্র ২০০০০ টাকা

. লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড

লঙ্কাবাংলা ব্যাংক যৌথ মালিকানাধীন একটা বহজাতিক কোম্পানি। যার যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৭ সালে কোম্পানি আইন-১৯৯৩ এর অধীনে। লঙ্কাবাংলা ব্যাংক বাংলাদেশে হোম লোনের জন্য সেরা কিছু ব্যাংকের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাংক থেকে লোন নিতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা হলো-

  • লোন নেওয়ার সময় বয়স সর্বনিম্ন ২১ হতে হবে।
  • লোনের মেয়াদকাল শেষে বেতনভুক্ত কর্মচারীদের বয়স হবে সর্বোচ্চ ৭০ বছরের বেশি হতে পারবে না।
  • অন্যান্য পেশার ব্যাক্তিবর্গের লোনের মেয়াদকাল শেষে বয়স ৬৫-৭০ বছর হতে হবে।
  • মাসিক আয় হতে হবে ব্যাবসায়ীদের জন্য ৫০০০০ টাকা, বেতনভুক্ত চাকুরিজীবীদের ৪০০০০ টাকা, প্রফেশনালদের ৪০০০০ টাকা।

লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ব্যাংক লি. হতে হোম লোন নিলে আপনি যেসব সুবিধা পাবেন তা হলো-

  • অতি দ্রুত লোন প্রাপ্তি এবং কাগজপত্রের বৈধতা নিরুপন।
  • সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লোন সুবিধা
  • মেয়াদকাল ২৫ বছর অব্দি।

৫. ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড

ইসলামি ব্যাংক ১৯১৩ সালের কোম্পানি আইনের অধীনের একটি পাবলিক লিমিটেড আর্থিক প্রতিষ্ঠান। যার কার্যক্রম সর্বপ্রথম চালু হয় ১৯৮৩ সালের ১৩ই মার্চ। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মূলধনী ব্যাংক।

ইসলামি ব্যাংকের লেনদেন ধারা ভিন্ন হলেও এই ব্যাংক হোম লোন সুবিধা দিচ্ছে। বাংলাদেশে হোম লোনের জন্য সেরা ব্যাংক হিসেবে এ ব্যাংক থেকেও হোম লোন নিতে কিছু  যোগ্যতা থাকা দরকার।

ইসলামী ব্যাংক থেকে হোম লোন পাওয়ার যোগ্যতাগুলো হলো-

  • যিনি লোন নিবেন তাকে উপার্জনক্ষম হতে হবে এবং লোন পরিশোধের ক্ষমতা থাকতে হবে।
  • যিনি লোন নিবেন তার বয়স ১৮-৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে ১৮-৪০ বছরের মধ্যে হলে সবচেয়ে ভালো হয়।
  • ইসলামি ব্যাংক থেকে যেকোনো লোন নিতে হলে ইসলামি ব্যাংকে আপনার ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে।
  • এ লোন নিতে কমপক্ষে ২জন জামিনদার থাকতে হবে।

ইসলামি ব্যাংক থেকে হোম লোন নেওয়ার সব থেকে বড় সুবিধা হলো-

  • বাড়ি নির্মাণে যে রড, বালু, সিমেন্ট প্রয়োজন সেগুলো কেনার অর্থ ব্যাংক আপনাকে না দিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজেই কিনে দিবে। যা ব্যাংকের জন্য ইনভেস্টমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে। আর আপনাকে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না।
  • সুদ মুক্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়। ইসলামি ব্যাংক মুনাফায় বিশ্বাসী, সুদে নয়।

ইতিকথা

বাংলাদেশে সামগ্রিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে হোম লোন প্রাপ্তি খুবই সহজ হয়ে উঠছে দিন দিন। আপনারা বাংলাদেশে হোম লোনের জন্য সেরা ব্যাংক হিসেবে উপরে আলোচিত ব্যাংকগুলো থেকে হোম লোন নিতে পারেন অথবা আপনাদের সুযোগ সুবিধা ভেবে অন্য যেসব ব্যাংক হোম লোন দিচ্ছে সেগুলো থেকেও নিতে পারেন এবং খুব সহজেই একটি বাড়ির মালিক হতে পারেন।

আশা করি, আর্টিকেলটি আপনাদের মনের প্রশ্ন দূর করতে সক্ষম হয়েছে। আরও কিছু জানতে আমাদের কে প্রশ্ন করতে পারেন কমেন্টের মাধ্যমে।

Subscribe
Notify of
guest

2 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
সোহেল সরকার
সোহেল সরকার
6 months ago

ভাই আমি হোম লোন করতে চ
চ্ছি আপনাদের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করবো

Sohel Rana
3 months ago

ইসলামী ব্যাংক কি হোম লোন দেয়