ঈদের আগে বাড়ি সাজানোর কিছু সহজ উপায়

ঈদের আগে বাড়ি সাজানোর কিছু সহজ উপায়

July 7, 2022

ঈদ এলেই সারা বিশ্বের মুসলমানদের মনে খুশির জোয়ার ছড়িয়ে পড়ে। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। এই খুশি ও আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে আমরা একে-অন্যের বাড়িতে মেহমান হিসেবে যায়।

ঈদকে সামনে রেখে আমাদের কত-শত আয়োজন আর যেন ইয়ত্তা নেই। আমরা নিজেদের রঙিন পোশাকে সাঁজাতে কত পোশাক কিনি। ঘর-বাড়ি, আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করি এবং বাহারি কৌশলে সাঁজিয়ে তোলার চেষ্টা করি।

আজকের এই লেখার মাধ্যমে আমরা জানার চেষ্টা করবো, ঈদ উপলক্ষে ঘর সাজানো যায় কীভাবে। এখানে আমরা বেশ কয়েকটি বিষয়ে সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করবো যেগুলো অনুসরন করলে আপনার ঘর হয়ে উঠবে আরো নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। তাহলে চলুন মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

দরজা সাজানো

বাসা-বাড়ি বা ঘরে ঢোকার প্রধান পথ হলো ঘরের মূল ফটক বা দরজা। দরজা, জানালা যতটা সাধারণ রাখা যায় দেখতে ততটাই ভালো লাগে। এখানে বেশি হিজিবিজি আয়োজন মোটেই রুচিশীল কাজ হতে পারে না।

তবে দরজা সাজানোর ক্ষেত্রে ছোট ফুলের গাছ অথবা পাতা বাহারি গাছ রাখা যেতে পারে। এখন আমাদের দেশেও হাজারো রকমের ইনডোর প্ল্যান্ট পাওয়া যায়। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- স্পাইডার প্ল্যান্ট, মানি প্ল্যান্ট, কয়েন প্ল্যান্ট, বিভিন্ন জাতের ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট ইত্যাদি। এছাড়াও প্লাস্টিকের তৈরি কৃত্রিম গাছও কিনতে পাওয়া যায়।

তবে কৃত্রিম গাছের চেয়ে আসল গাছ দেখতে অনেক বেশি সতেজ ও নান্দনিক দেখায়। আবার অনেক ধরনের ফুলের গাচও ঘরে রেখে ফুল ফোটানো সম্ভব। সেগুলো দিয়েও ঘরের দরজাটা সাজিয়ে নিতে পারেন।

দরজা সাজানোর ক্ষেত্রে পর্দার ব্যবহার বহুল প্রচলিত একটি প্রথা। এক্ষেত্রে সলিড কালারের অথবা প্রিন্টেড পর্দা ব্যবহার করা যায়। তবে দরজা, জানালায় ইদানীং সলিড কালারের ট্রান্সলুসেন্ট পর্দার ব্যবহার বেশ বেড়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন ডিজাইনের কালারফুল পর্দাও বেছে নিতে পারেন। আপনার ঘরের দেওয়ালের রঙ ও দরজার সাথে মানায় এরকম পর্দা বাছাই করুন।

দেয়াল সাজানো

যে ঘরের দেয়াল দেখতে যতটা সুন্দর ও আকর্ষণীয় সে ঘরে থেকে ততটাই সাচ্ছ্যন্দ বোধ হয়। ঘরের দেয়াল সাজানোর পূর্বশর্ত হলো দেয়ালের জন্য সুন্দর একটি রঙ বাছাই করা।

আপনি যদি ভাড়া বাসায় থাকেন তাহলে নিজের ইচ্ছেমতো দেয়াল রঙ করতে পারবেন না। কিন্তু দেয়ালে যে রঙ আছে তার সাথেই মিলে রেখে সাজানো যেতে পারে। এজন্য বিভিন্ন উপায় উপকরণ ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ থ্রি ডি ওয়াল স্টিকার, লতানো গাছ, ওয়াল মেট, ফটো ফ্রেম বা পোস্টার বোর্ড ইত্যাদি।

উপরের জিনিসগুলো বড় বড় শহরে বিভিন্ন স্থানীয় দোকানে অনায়াসেই পাওয়া যায়। তবে যদি না পান সেক্ষেত্রে অনলাইন থেকে কিনে নিতে পারেন। এখন বানী সম্বলিত ফটো ফ্রেমগুলো বেশ জনপ্রিয়।

এছাড়া গাছ পাখি ইত্যাদির ছবি সম্বলিত টু ডি, থ্রি ডি স্টিকার পাওয়া যায় যেগুলো দেয়ালে লাগালে অন্যরকম একটা সৌন্দর্য্য ফুটে ওঠে। আর যদি দেয়ালের রঙ একদমই পছন্দ না হয় তাহলে তো ইচ্ছেমতো বাহারি ডিজাইনের ওয়াল মেট ব্যবহারের সুযোগ আছেই। কিন্তু এসবের জন্য বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলে নেওয়াই ভালো।

লাইটিং

বিভিন্ন ডিজাইন ও রঙের লাইট ছাড়া যেন ঘরের আসল সৌন্দর্য্য ফুটেই ওঠে না। ঘরে রাতের আসল সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তোলার জন্য বাহারি রকমের লাইট ব্যবহার করা যায়। এখন বাজারে স্বল্পমূল্যেই এসব লাইট ও সেটাপ কিনতে পাওয়া যায়।

এলইডি স্ট্রিপ লাইট, সলিড ও মাল্টিকালার ডীম লাইট, টেবিল ল্যাম্প সহ অনেক ধরনের লাইট পাওয়া যায়। বেলকনি, লিভিং রুম, ডাইনিং রুমে সলিড কালারের ডীম লাইট ব্যবহার করলে অসাধারন দেখায়। এক্ষেত্রে প্রতিটি ঘরে আলাদা আলাদা রঙের লাইটও ব্যবহার করা যেতে পারে।

আবার বিছানার দুই পাশে উঁচু টেবিল ল্যাম্পও রাখা যেতে পারে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাত্রে সবসময়ই এই লাইটগুলো ঘরে জ্বালিয়ে রাখতে পারবেন, এগুলো তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ করে।

এছাড়া দেয়াল সাজানোর জন্য এলইডি স্ট্রিপ লাইট ও মাল্টিকালারের রুম ডেকোরেটিভ লাইট ব্যবহার করা যায়। এগুলো দেয়ালের সাথে আঠা অথবা পিন দিয়ে ঝুলিয়ে দিতে হয়। দেয়ালে স্ট্রিপ লাইট ঝুলিয়ে বিভিন্ন আকারও দেওয়া যায়।

সাদা এনার্জি সেভিংস বাল্বগুলোর চেয়ে ঘরে এগুলো ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল কল আসে এবং ঘরটা দেখতেও অনেক সুন্দর ও উৎসবমুখর দেখায়।

বিছানার চাদর

অন্যান্য জিনিসের মতো বিছানার চাদর নিয়ে মেয়েদের আগ্রহটা যেন একটু বেশিই থাকে। যেকোনো ঘরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য মানানসই বিছানার চাদর ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

বাহারি রকমের বিছানার চাদর কিনতে পাওয়া যায়। তবে কেনার আগে অবশ্যই চিন্তা ও কল্পনা করে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপনার ঘরের অন্যান্য আসবাবপত্রের সাথে মিল রেখে এর নকশা ও রঙ বাছাই করা উচিৎ।

বিছানার চাদর হবে সাদামাটা ধরনের, এতে বেশি ঘিজিমিজি কিছু থাকলে তা মনে হয় বেমানান দেখায়। প্রিন্টেড, হাতের কাজ করা, বাটিক সহ অনেক রকমের বিছানার চাদর পাওয়া যায়।

আপনার ঘরে যদি বেশি ধুলাবালি প্রবেশ করে অথবা পরিষ্কার করার ঝামেলা এড়াতে চান তাহলে গাড় রঙের বিছানার চাদর সবচেয়ে ভালো হবে, কারণ এই ধরনের রঙে ময়লা বোঝা যায় কম। এগুলোর ঝামেলা না থাকলে লাইট কালারের বিছানা চাদরও নিতে পারেন তবে তা যেন রুচিশীল হয়।

ডাইনিং টেবিল সাজানো

খাওয়া দাওয়া ছাড়া যেন ঈদর আমজেওটাই তৈরি হয় না। এছাড়া আসছে ঈদ-উল আযহা, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খাবারের অনুষ্ঠান। ইদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ সবার বাড়িতেই ভরপুর খাবার-দাবার রান্না করা হয়।

কিন্তু খাওয়ার স্থানটি যদি একটু ভিন্ন রকম না হয় তাহলে যেন ব্যাপারটা জমেই না! এজন্য চাই, ডাইনিং টেবিলকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা।

ডাইনিং টেবিল সাজানোর কথা বললে, প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে টেবিল ক্লোথের কথা। একটু সুন্দর ও আকর্ষণীয় টেবিল ক্লথ ডাইনিং এর আয়োজনের সৌন্দর্য্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তাই বাড়িতে থাকা রেগুলার টেবিল ক্লোথের পরিবর্তে নতুন একটি টেবিল ক্লথা ব্যবহার করুন যাতে তা সবার নজর কাড়তে পারে। চাইনিজ সহ বিশ্বের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চমৎকার টেবিল ক্লোথ কিনতে পাওয়া যায় আমাদের দেশে।

এছাড়াও ডাইনিং টেবিলের ঠিক উপরে একটি সুন্দর ঝারবাতিও ঝুলানো যেতে পারে। এটা রাতে খাওয়ার আনন্দ ও পরিবেশকে আরো চমৎকার করে তুলতে সক্ষম হবে।

ইনডোর প্ল্যান্ট

এবার আসি ইনডোর প্ল্যান্ট বা ঘরোয়া গাছের ব্যাপারে। ঘড় সাজানোর জন্য এই জিনিসটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ হিসেবে আমরা সবাই প্রকৃতির খুব কাছে থাকতে ভালোবাসি। কিন্তু নানান কারনে তা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে আপনি চাইলেই ঘরের ভেতরে কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট রেখে মানসিক স্বস্তি ও ঘরের সৌন্দর্য্য বাড়াতে পারেন।

নার্সারিতে অনেক প্রকারের ইনডোর প্ল্যান্ট পাওয়া যায়। যেমনঃ খাটো জাতের পাম গাছ, স্পাইডার প্ল্যান্ট, ক্যালাডিয়াম প্ল্যান্ট, কামিনি বনসাই, বেলি বনসাই, অ্যান্থেরিয়াম সহ আরো অনেক গাছ, যা সহজেই সরাসরি রোদের আলো ছাড়াই ঘরে বেড়ে উঠে।

বলে রাখা ভালো যে, স্পাইডার প্ল্যান্ট বাতাসকে বিশুদ্ধ করে। আমরা সবাই জানি বায়ু দুষণ সম্পর্কে। তাই ঘরের মধ্যে কয়েকটা স্পাইডার প্ল্যান্ট রাখলে তা যেমন সৌন্দর্য্য বর্ধনে সাহায্য করবে তেমনি ঘরের বাতাসকেও বিশুদ্ধ রাখবে।

শৌখিন সামগ্রী

ঘর সাঁজাতে শৌখিন সামগ্রীর কোনো তুলনা নেই, যদিও এগুলো কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। এটা হলো ঘর সাজানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। বিভিন্ন টয়, ফুলদানি, শোপিস, সুন্দর মলাটের বই, কৃত্রিম গাছ, পানির ফোয়ারা, রঙিন মাছের অ্যাকুরিয়াম ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এগুলো আসলেই মন ভালো রাখতে খুবই কার্যকরী। কোনো ফার্নিচারের পাশে যদি একটি রঙিন মাছের সুন্দর অ্যাকুরিয়াম থাকে তাহলে তা দেখতে সত্যিই অনন্য।

এছাড়া একটা আলাদা শেলফ বানিয়ে ঘর অথবা গেস্ট রুমের কোনায় রাখতে পারেন যেখানে বিভিন্ন ধরনের শৌখিন জিনিসপত্র রাখা যায়। তাতে একটা ছোট লাইটও রাখা যায়, যেটা রাতের পরিবেশকে মানিয়ে নেবে।

কার্পেট ও রাগস

যেকোনো ঘরের সৌন্দর্য্য বাড়াতে রাগস বা কার্পেট অতুলনীয়। বিভিন্ন নান্দনিক ডিজাইনের কার্পেটগুলো আমাদের ঘরের মেঝে সহ পুরো ঘরকে সহজেই সুন্দর করে তোলে।

এগুলো যেই যুগ যুগ ধরে আমাদের ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে। অনেক আগে শুধু রাজা-রানীদের বাড়িতে ব্যবহার করা হলেও এখনে এগুলো বেশ সহজল্ভ্য হয়ে গেছে।

তাই বাসার মেঝে সাঁজাতে এগুলোর ব্যবহার অবশ্যই রুচিশীলতার পরিচয় বহন করে। তাছাড়া এখন বাহারি নকশার হাতের কাজ করা রাগসও কিনতে পাওয়া যায়। সেগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, দামেও কিছুটা বেশি।

ইতিকথা

এই ছিলো সহজ পদ্ধতিতে ইদে ঘর সাজানোর উপায় সম্পর্কে একটি ধারণা। আপনার ঘর তখনই সুন্দর হয়ে উঠবে যখন আপনার মননশীলতা ও সৃজনশীলতার একটি সুন্দর মিশেল তৈরি করতে পারবেন।

আমরা শুধুমাত্র একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আপনার ঘর শুধুমাত্র আপনিই অনন্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments