আপনি ফ্ল্যাট বুক করেছেন, কিস্তি দিয়েছেন, এখন ডেভেলপার জানিয়েছে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত। এই জায়গায় এসে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে কাগজে সই করে ফেলেন। পরে বাথরুমের কোণে ভেজা দাগ, জানালার ছিটকিনি ঢিলা কিংবা একটা সুইচবোর্ড কাজ না করার মতো ঝামেলা বেরোয়। তখন ডেভেলপারকে দিয়ে ঠিক করানো আগের চেয়ে কঠিন হয়ে যায়।
এই লেখাটি সেই শেষ ধাপের জন্য। ফ্ল্যাট কেনা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখানে আলোচনা হচ্ছে না। এখানে শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর: হ্যান্ডওভার নেওয়ার আগে ফ্ল্যাটে ঠিক কী কী দেখবেন, আর কীভাবে দেখবেন। ফ্ল্যাট কেনার ধাপগুলো নিয়ে জানতে চাইলে ফ্ল্যাট কেনার গাইডলাইন পড়ে নিতে পারেন। আর ফ্ল্যাটটি রেডি নাকি নির্মাণাধীন, এই দ্বিধায় থাকলে দেখুন রেডি ফ্ল্যাট ও আন্ডার-কনস্ট্রাকশন ফ্ল্যাটের পার্থক্য।
ফ্ল্যাট হ্যান্ডওভার ইন্সপেকশন হলো ডেভেলপারের কাছ থেকে ফ্ল্যাটের দখল বুঝে নেওয়ার আগে নির্মাণ শেষ হওয়া ইউনিটটি নিজের চোখে, হাতে ধরে যাচাই করা। চুক্তিতে যা বলা হয়েছিল আর বাস্তবে যা তৈরি হয়েছে, এই দুইয়ের মিল আছে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
কেন করবেন, তার কারণ সোজা। হ্যান্ডওভারের কাগজে সই করার পর ফ্ল্যাট কার্যত আপনার দায়িত্বে চলে যায়। তার আগে পাওয়া ত্রুটি বা সমস্যাগুলো লিখিতভাবে জানালে তাড়াতাড়ি সমাধান হয়ে থাকে। আর ছোট ত্রুটি, যেমন একটা ফাটা টাইলস বা ঢিলা দরজার কবজা, ফ্ল্যাটে উঠে যাওয়ার পর সামলানো বিরক্তিকর। একটা-দুটো না, কয়েক ডজন এমন ছোট ঝামেলা একসঙ্গে জমলে আরও।
দুটো আলাদা কাজ, তবে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন। কেনার আগে আপনি দেখেন প্রকল্প, জমি, কাগজপত্র আর নির্মাণের সামগ্রিক মান। হ্যান্ডওভারের সময় দেখেন আপনার নির্দিষ্ট ইউনিটের কাজের মান, ফিটিংস আর ত্রুটি।
| বিষয় | কেনার আগের যাচাই | হ্যান্ডওভার ইন্সপেকশন |
|---|---|---|
| সময় | বুকিং বা কেনার আগে | দখল নেওয়ার ঠিক আগে |
| উদ্দেশ্য | প্রপার্টি বেছে নেওয়া | তৈরি হয়ে যাওয়া ফ্ল্যাট যাচাই |
| ফোকাস | লোকেশন, কাগজপত্র, নির্মাণের সামগ্রিক মান | কাজের মান, ফিটিংস, ত্রুটি |
| ফলাফল | কিনবেন কি না | ত্রুটি ঠিক করিয়ে তবেই গ্রহণ |
কেনার আগে কী কী মাথায় রাখবেন, তার তালিকা পাবেন ফ্ল্যাট কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা দরকার লেখায়। প্রপার্টি দেখতে যাওয়ার সময় কী খেয়াল রাখবেন, সেটা আলাদা করে আছে কেনার আগে প্রপার্টি দেখার নিয়ম লেখায়। ভবনের কাঠামো ও নির্মাণমান যাচাই একটা আলাদা বিষয়, আর এই লেখায় তা নেই। এখানে শুধু আপনার ইউনিটের ভেতরের কাজ আর কমন সুবিধা।
খালি হাতে গেলে অনেক কিছু চোখ এড়িয়ে যায়। সঙ্গে রাখুন:
সময় বেছে নিন দিনের আলোয়। সন্ধ্যায় গেলে দেয়ালের অসমতা, রঙের দাগ আর সিলিংয়ের ফাটল ঠিকমতো ধরা পড়ে না। হাতে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা রাখুন। সঙ্গে একজন পরিচিত মানুষ নিলে ভালো, কারণ দুজোড়া চোখ বেশি ধরে।
ইন্সপেকশনের উদ্দেশ্য হলো প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবের তুলনা, তাই এই কাগজগুলো সঙ্গে নিন:
এখানে জমি বা মালিকানার আইনি কাগজ যাচাইয়ের কথা হচ্ছে না। সেটা আলাদা বিষয়, আর এ নিয়ে জানতে চাইলে দেখুন আইনজীবী ছাড়া রিয়েল এস্টেট ডকুমেন্ট যাচাইয়ের নির্দেশিকা। ডেভেলপারের পরিচয় ও কাজের ইতিহাস নিয়ে সংশয় থাকলে বিল্ডারের সুনাম যাচাই করার উপায় লেখাটি কাজে লাগবে।
শুরু করুন মূল দরজা থেকে, কারণ সেখানেই প্রথম ছাপ পড়ে।
মূল দরজা: দরজা খুলে আবার বন্ধ করুন। কয়েকবার। মাঝখানে আটকে যায় কি না, ফ্রেমের সঙ্গে ফাঁক সমান আছে কি না দেখুন। তালা ঘুরিয়ে চাবি দিয়ে পরীক্ষা করুন, সব চাবি পেয়েছেন কি না গুনে নিন। দরজায় আঁচড়, ফাটা বা রঙ উঠে যাওয়া আছে কি না দেখুন। ম্যাজিক আই বা ডোরবেল থাকার কথা থাকলে সেটা কাজ করছে কি না, সেটাও।
ভেতরের দরজা: প্রতিটি ঘরের দরজা খুলে বন্ধ করুন। কবজা শব্দ করছে কি না, হাতল ঢিলা কি না, ছিটকিনি বা তালা ঠিকমতো লাগছে কি না, দরজার নিচে ফ্লোরের সঙ্গে ঘষা খাচ্ছে কি না, এসব দেখুন। বাথরুমের দরজা আলাদা করে দেখুন, কারণ আর্দ্রতার কারণে সেখানে সমস্যা আগে দেখা দেয়।
এটাই ইন্সপেকশনের মূল অংশ। এখানে তাড়াহুড়ো করবেন না।
প্রতিটি ঘরে হেঁটে দেখুন, আর টাইলসের ওপর পায়ের চাপ দিন। কোনো টাইলস নড়ে বা ফাঁপা শব্দ করলে বুঝবেন নিচে ঠিকমতো বসেনি। এটা ধরার একটা পুরোনো কৌশল আছে: একটা চাবি বা কয়েন দিয়ে টাইলসে আলতো টোকা দিন। শক্ত জায়গায় শব্দ ভারী আর ফাঁপা জায়গায় ফাঁকা শোনায়। সব টাইলসে এভাবে টোকা দিতে হবে না, তবে প্রতিটি ঘরের মাঝখানে আর কোণে কয়েকটা দেখুন।
আরও দেখুন:
দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে টর্চ ঘেঁষে ধরুন, আলো দেয়ালের সমান্তরালে ফেললে অসমতা স্পষ্ট দেখা যায়। খুঁজুন:
দেয়ালে নোনা বা স্যাঁতসেঁতে ভাব চোখে পড়লে এর কারণ নিয়ে আলাদা লেখা আছে: দেয়ালে নোনা ধরার কারণ। কারণটা বুঝে থাকলে ডেভেলপারকে প্রশ্ন করাও সহজ হয়।
মাথা তুলে প্রতিটি ঘরের সিলিং দেখুন। পানির দাগ, হলদেটে ছোপ, ফাটল বা রঙ ফুলে ওঠা থাকলে সেটা ছাদ বা ওপরের তলার পাইপ থেকে চুইয়ে পড়ার ইঙ্গিত হতে পারে। কারণ নিজে নিশ্চিত করতে না পারলে ছবি তুলে ডেভেলপারকে জিজ্ঞেস করুন। সিলিংয়ের কোণ আর লাইট বসানোর জায়গাও দেখে নিন।
এই অংশে যা পাবেন, সেটাই আপনার ফ্ল্যাট ডিফেক্ট চেকলিস্টের (flat defect checklist) সবচেয়ে বড় অংশ হবে।
প্রতিটি জানালা পুরো খুলে, আবার বন্ধ করে দেখুন। ছিটকিনি বা লক ঠিকমতো লাগছে কি না, গ্লাসে ফাটল বা আঁচড় আছে কি না, ফ্রেম বাঁকা কি না, আর বন্ধ অবস্থায় কোণে ফাঁক আছে কি না, এসব দেখুন। সিলিংয়ের মতো জানালার নিচের দেয়ালেও পানির দাগ খুঁজুন। বৃষ্টির পানি ফ্রেমের ফাঁক দিয়ে ঢোকে কি না, সেটা সাধারণত ওই দাগে ধরা পড়ে।
বারান্দায় রেলিং ধরে নাড়া দিন। ঢিলা থাকলে সেটা নিরাপত্তার প্রশ্ন, শুধু দেখনদারির না। এরপর বারান্দার মেঝেতে সামান্য পানি ঢেলে দেখুন, পানি ড্রেনের দিকে যায় কি না। কোথাও জমে থাকলে ঢাল ঠিক নেই। ড্রেনের মুখ বন্ধ কি না, আর মেঝে ও দেয়ালের জোড়ায় ফাটল আছে কি না, সেটাও দেখে নিন।
বাথরুমে ঝামেলা হলে পরে সারানো সবচেয়ে খরচের আর ঝক্কির। তাই এখানে বাড়তি সময় দিন।
একাধিক বাথরুম থাকলে প্রতিটি আলাদা করে দেখুন। একটা ঠিক মানে বাকিগুলোও ঠিক, এমন ধরে নেবেন না।
প্রতিটি সুইচ একটা একটা করে টিপুন। যে সুইচের যে বাতি বা ফ্যানের লাইন, সেটাই চলছে কি না মিলিয়ে নিন। সকেটে পরীক্ষার জন্য মোবাইল চার্জার লাগান। চার্জ হলে সকেটে সংযোগ আছে বোঝা যায়।
এরপর:
একটা সীমারেখা মনে রাখুন। ওয়্যারিংয়ের ভেতরের মান, আর্থিং ও লোডের হিসাব সাধারণ ক্রেতা চোখে দেখে বলতে পারেন না। সন্দেহ থাকলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে একবার পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াই ভালো। বারবার ব্রেকার পড়ে যাওয়া বা সুইচবোর্ড গরম হওয়ার মতো লক্ষণ কেন দেখা দেয়, তা বুঝতে শর্ট সার্কিট নিয়ে বিস্তারিত পড়ে নিতে পারেন।
বাথরুম ও রান্নাঘরের আলোচনায় অনেকটা এসেছে, তবু পুরো ফ্ল্যাটের হিসাবে একবার আলাদা করে দেখুন।
প্রতিটি ঘরের জন্য এই ছকটি নিয়ে যান। সমস্যা পেলে “সমস্যা” কলামে লিখুন, আর “করণীয়” কলামে কী ঠিক করতে হবে।
| ইন্সপেকশনের বিষয় | চেক | সমস্যা | করণীয় |
|---|---|---|---|
| মেঝে | ☐ | ||
| দেয়াল | ☐ | ||
| সিলিং | ☐ | ||
| দরজা | ☐ | ||
| জানালা | ☐ | ||
| ইলেকট্রিক্যাল | ☐ | ||
| প্লাম্বিং | ☐ | ||
| বাথরুম | ☐ | ||
| রান্নাঘর | ☐ | ||
| বারান্দা | ☐ |
ফ্ল্যাটের ভেতর ঠিক থাকলেও বাইরের অংশে সমস্যা থাকলে বসবাসে ভোগান্তি হয়।
পার্কিং: আপনার জন্য বরাদ্দ জায়গাটি চুক্তি অনুযায়ী চিহ্নিত আছে কি না। সেখানে গাড়ি ঢোকানো ও বের করা সহজ কি না, মাপ যথেষ্ট কি না, কোনো থাম বা অন্য কিছু পথ আটকাচ্ছে কি না, আর মেঝে ও রঙের কাজ শেষ হয়েছে কি না। পার্কিংয়ের মালিকানা বা আইনি অধিকার নিয়ে আলোচনা এই লেখার বিষয় নয়।
লিফট: ওঠানামা করে দেখুন। ঝাঁকুনি আছে কি না, দরজা ঠিকমতো খোলে-বন্ধ হয় কি না, ভেতরের বোতাম, বাতি ও ফ্যান কাজ করছে কি না, আর জরুরি অ্যালার্ম বা যোগাযোগের ব্যবস্থা আছে কি না।
জেনারেটর বা ব্যাকআপ পাওয়ার: আছে কি না, ফ্ল্যাটের কোন কোন লাইনে সংযোগ থাকবে, আর পরিচালনার দায়িত্ব কার।
সিঁড়ি: আলো, রেলিং, সিঁড়ির ধাপ সমান কি না, আর পথে মালপত্র জমে আছে কি না।
অগ্নিনিরাপত্তা: অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আছে কি না, জরুরি বের হওয়ার পথ খোলা কি না, সিঁড়ির দরজা আটকানো কি না। বিস্তারিত মান বা বিধি নিজে যাচাই করতে না পারলে ডেভেলপারের কাছে লিখিত তথ্য চান।
কমন এলাকা: প্রবেশপথ, করিডোর, ছাদ ও পানির ট্যাংক। কাজ শেষ হয়েছে কি না, আলো আছে কি না, আর ময়লা বা নির্মাণসামগ্রী পড়ে আছে কি না।
ইন্সপেকশনের এই অংশে কম লোকই যান, অথচ এখানেই অনেক ক্ষোভ জমে।
ফ্লোর প্ল্যানের সঙ্গে লেআউট মেলান। অনুমোদিত নকশা হাতে নিয়ে প্রতিটি ঘরে ঢুকুন। দেয়াল কোথায়, দরজা কোথায়, জানালার অবস্থান ঠিক আছে কি না, মিলিয়ে নিন।
ঘরের ভেতরের মাপ নিন। ফিতা দিয়ে প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ মাপুন, নকশার সঙ্গে তুলনা করুন। পুরো ফ্ল্যাটের মোট আকার (স্কয়ার ফুট) সরাসরি মাপা কঠিন, কারণ চুক্তির আকারে সাধারণত দেয়াল, থাম ও কমন এলাকার অংশ ধরা থাকে। আপনার চুক্তিতে এটা কীভাবে লেখা আছে, তা দেখে নিন। ঘরের ভেতরের মাপে বড় অমিল পেলে লিখিতভাবে জিজ্ঞেস করুন।
ফিক্সচার ও ফিটিংস। স্পেসিফিকেশন লিস্ট খুলে এক এক করে মেলান: টাইলসের ধরন, সুইচের ব্র্যান্ড, স্যানিটারি ওয়্যার, দরজার ধরন, রান্নাঘরের ক্যাবিনেট। লিখিত আছে অথচ লাগানো হয়নি, এমন কিছু পেলে সেটা ত্রুটির তালিকায় তুলুন।
স্ন্যাগ লিস্ট মানে হ্যান্ডওভারের সময় পাওয়া সব ত্রুটি ও অসম্পূর্ণ কাজের লিখিত তালিকা। পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কাজের জিনিস এটাই। মুখের কথা পরে হারিয়ে যায়, লিখিত তালিকা হারায় না।
নমুনা ছক:
| নং | জায়গা | সমস্যা | ছবি | করণীয় | অবস্থা |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | |||||
| ২ | |||||
| ৩ |
সই করার ঠিক আগে নিজেকে এই দশটা প্রশ্ন করুন:
একটা উত্তরও “না” হলে সই করার আগে সেটা মিটিয়ে নিন। এমন ক্ষেত্রে আপনার চুক্তিতে ত্রুটি সংশোধনের কোনো সময়সীমা বা শর্ত লেখা আছে কি না, সেটাও দেখুন। আইনি অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত না হলে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। হ্যান্ডওভারের সময়ই রেজিস্ট্রেশনের কাজ চলতে থাকলে জেনে রাখুন ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে কী কী লাগে।
শুধু চোখে দেখে ইন্সপেকশন শেষ করাঃ চোখে সব ধরা পড়ে না, ট্যাপ খুলুন, সুইচ টিপুন, দরজা নাড়ুন, পানি ঢালুন।
ত্রুটি লিখিতভাবে না রাখাঃ “ঠিক করে দেব” কথা মুখে মুখে হয়, পরে কেউ মনে রাখে না।
ছবি না তোলাঃ ছবি ছাড়া কে কী বলেছিল তা প্রমাণ করা কঠিন।
চুক্তি ও স্পেসিফিকেশন সঙ্গে না নেওয়াঃ কাগজ না থাকলে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব মেলানো যায় না।
সব কাজ শেষ হয়েছে ধরে নেওয়াঃ ঝকঝকে দেখালেই সব ঠিক, এই ধারণা সবচেয়ে ক্ষতিকর। বাইরের পালিশের নিচে লুকিয়ে থাকে লিকেজ।
হ্যান্ডওভারের কাগজ না পড়ে সই করাঃ সই করা মানে শর্তে সম্মতি। আগে পড়ুন, প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞেস করুন।

এই তালিকা প্রিন্ট করে সঙ্গে নিয়ে যান। DOC FILE DOWNLOAD
ডেভেলপারের কাছ থেকে ফ্ল্যাটের দখল নেওয়ার আগে তৈরি হয়ে যাওয়া ফ্ল্যাটটি ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা করা। উদ্দেশ্য হলো চুক্তির প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব কাজের মান মিলিয়ে দেখা এবং ত্রুটি থাকলে সেগুলো ঠিক করিয়ে নেওয়া।
দরজা, জানালা, মেঝে, দেয়াল, সিলিং, বাথরুম, রান্নাঘর, বিদ্যুৎ, পানি ও ড্রেনেজ, বারান্দা, এবং পার্কিং, লিফট ও সিঁড়ির মতো কমন সুবিধা। সঙ্গে ফ্লোর প্ল্যান ও স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে বাস্তবের মিল।
হ্যান্ডওভারের কাগজে সই করার আগে, দিনের আলো থাকতে। তাড়াহুড়োর দিনে নয়, এমন একটা দিন বেছে নিন যেদিন কয়েক ঘণ্টা হাতে থাকবে।
ছবি তুলুন, জায়গা ও সমস্যা লিখুন, আর ডেভেলপারের প্রতিনিধির কাছ থেকে লিখিত স্বীকৃতি নিন। সংশোধনের একটা সময়সীমা ঠিক করে নিন। আপনার চুক্তিতে এ নিয়ে কোনো ধারা থাকলে সেটা দেখুন।
হ্যাঁ, প্রতিটি ঘরের ভেতরের মাপ নিয়ে নকশার সঙ্গে মেলানো ভালো। তবে চুক্তির মোট আকারে দেয়াল ও কমন অংশ ধরা থাকতে পারে, তাই সেই মোট আকার ফিতা দিয়ে সরাসরি মেলে না। চুক্তিতে আকার কীভাবে হিসাব করা হয়েছে, তা দেখে নিন। ফ্ল্যাটের আকার নিয়ে সাধারণ ধারণার জন্য দেখতে পারেন কোন সাইজের অ্যাপার্টমেন্ট নেওয়া উচিত।
মেঝে-দেয়াল-সিলিংয়ের অবস্থা, দরজা-জানালা, বাথরুম ও রান্নাঘরের কাজ, ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিং, বারান্দা, পার্কিং, লিফট ও কমন সুবিধা, আর ত্রুটির লিখিত তালিকা। উপরের প্রিন্টযোগ্য চেকলিস্টে সবই আছে।
বাধ্যতামূলক নয়, তবে ফ্ল্যাট বড় হলে বা নিজে বুঝতে না পারলে নেওয়া যায়। বিশেষ করে ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিংয়ের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান আর প্লাম্বিংয়ের জন্য অভিজ্ঞ প্লাম্বার সঙ্গে নিলে ভেতরের সমস্যা ধরা পড়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
হ্যান্ডওভারের দিনটা উদযাপনের, কিন্তু সই করার আগের কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে সতর্ক থাকার। একটা ছাপানো চেকলিস্ট, ফিতা, ফোন আর ধৈর্য থাকলে আপনি নিজেই অনেক ত্রুটি ধরতে পারবেন। যা ধরলেন, লিখে রাখুন। যা লিখলেন, ডেভেলপারের স্বীকৃতিসহ নিন।
ত্রুটির তালিকা মিটে গেলে নতুন ফ্ল্যাটে ওঠার আগের গোছগাছের জন্য কাজে লাগবে নতুন বাসায় ওঠার প্রস্তুতির টিপস।
GLG Assets-এর প্রকল্পগুলো দেখতে চাইলে কিংবা হ্যান্ডওভার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।